বরিশাল
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলমুখী মানুষের ঢল অব্যাহত, কাল আখেরি মোনাজাত
মহাপবিত্র বিশ্ব উরশ শরিফ উপলক্ষ্যে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলমুখী জনশ্রোত অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতভর এবাদত বন্দেগী করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে ভক্তরা মঞ্জিলে ছুটে আসছেন। বিশাল এই দরবার শরিফ ও সন্নিহিত ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এখন শুধু মানুষ আর মানুষ।
রাত ৩টার রহমতের সময় থেকে এশার নামাজ বাদে ৫০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ওয়াক্তিয়া নামাজ, নফল নামাজ, দোয়া-মোনাজাত, ফজর ও মাগরিব ফাতেয়া শরিফ পাঠ এবং মোরাকবা-মোশাহেদা কার্যক্রমও চলছে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের খাদেমবৃন্দ ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম এই দরবারে ওয়াজ করছেন।
এবারের উরশ শরিফে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও বিশ্বের নানা দেশ থেকে জাকেরান ও আশেকানসহ মুসল্লিগণ অংশ নিচ্ছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার ও জলপাইগুড়ি থেকে সহশ্রাধিক ভক্ত আগেই মঞ্জিলে পৌঁছেছেন। উত্তরবঙ্গের পাবর্তিপুর থেকে প্রায় ৫ হাজার ভক্তকে নিয়ে ১৬ বগির একটি রিজার্ভ ট্রেন গত শুক্রবার পুকুরিয়া স্টেশনে পৌঁছেছে। ট্রেনটি আখেরি মোনাজাতের পর মঙ্গলবার বিকেলে পার্বতিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকেও প্রতিদিন শতাধিক বাস মঞ্জিলে যাচ্ছে। বরিশাল–ফরিদপুর–ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পুকুরিয়া ও তালমা মোড় থেকে মঞ্জিল পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক, এবং ঢাকা–ভাংগা–খুলনা মহাসড়কের মালিগ্রাম থেকে মঞ্জিল পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কসহ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। তবে জনসংখ্যার ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আগত প্রতিটি মানুষের জন্য আহার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় ন্যূনতম ৩ লাখ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা চলছে। শুক্রবার জুমা থেকে মঙ্গলবার আসর পর্যন্ত অন্তত এক কোটি মানুষ এই দরবারে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এ বছর উরশ শরিফের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও ওয়াজ ও নসিহত চলবে আসর নামাজ পর্যন্ত। সে পর্যন্ত মঞ্জিলমুখী জনশ্রোত অব্যাহত থাকবে।


