পটুয়াখালী
পটুয়াখালীতে টাইলস মিস্ত্রিকে ব্যাট ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৪
পটুয়াখালী শহরে পূর্বশত্রুতার জেরে খন্দকার নাহিদ (২৫) নামের এক যুবককে ব্যাট ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খন্দকার নাহিদ পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত খন্দকার নিজামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিল বলে জানা গেছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এবং ৩১ ডিসেম্বর বিকেল সোয়া ৫ টার দু’দফায় নাহিদের ওপর হামলা হয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নাহিদের।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. নাসরিন আক্তার (৪৫) পটুয়াখালী সদর থানায় ১১জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ এপর্যন্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাহিন (২৩), নাহিদ (২৩), মো. তুষার (২৩) ও সাইফুল ইসলাম হিরা (২৩)। এদের বাড়ি পটুয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৮/১০ জনের একদল যুবক কলাতলা মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রথম দফায় খন্দকার নাহিদ ও তার ছোট ভাই খন্দকার ফাহিমকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে উভয়পক্ষ নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।
পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার রুস্তম মৃধা কালভার্ট সংলগ্ন হোয়াইট হাউজ নামে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন নাহিদ। সেখানে মাহিনের নেতৃত্বে একদল যুবক তার পথরোধ করে ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
একপর্যায়ে মাহিন ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে নাহিদের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নাহিদকে উদ্ধার করে প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নাহিদের মা পটুয়াখালী সদর থানায ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আমরা চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নাহিদের মরদেহ বরিশার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।’



