বরগুনা
মিধিলিতে নিখোঁজ ১৭ জেলে ভারতে কারান্তরীণ
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ২ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া বরগুনার ১৭ জন জেলের সন্ধান মিলেছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানা গেছে, তারা বর্তমানে ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এ খবরে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও শোকের মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর মাঝে ফিরেছে আশার আলো।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে ১৭ জন জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। এরপর দীর্ঘ দুই বছর তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার জেলা ইন্টেলিজেন্স অফিসার (ওয়ান) মো. কামরুজ্জামান জানান, সম্প্রতি এসবিতে পাঠানো এক তথ্যে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ বরগুনার ১৭ জন জেলে ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি আছেন।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকায় এসবিতে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জনের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন হলেন : আবদুর রব মিয়া, মনির হোসেন, খলিলুর রহমান, লিটন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, মো. কালুমিয়া এবং সিদ্দিক মৃধা।
ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী গ্রামের নয়জন হলেন : আবদুল খালেক বয়াতি, আউয়াল বিশ্বাস, আল আমিন, নান্টুখান, মো. ইউনুস, মো. সোবাহান খান, মো. মাহতাব, মো. কামাল ও মো. ফারুক। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা।
গুজরাট কারাগারে বন্দি জেলে ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শুনছি আমার পোলাডা ভারতের কারাগারে আটক আছে। দুই বছর ধরে নিখোঁজ ছিল। এই খবর শোনার পর শূন্য বুকটা ভরে উঠছে। কখন পোলাডা বাড়ি ফিরবে, কখন ওর মুখটা ছুঁয়ে দেখব, এই অপেক্ষায় আছি। ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর ওর বাবা মারা গেছে। আমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে দিন কাটাই।
আরেক জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, দুই বছর তিন মাস পর জানতে পারলাম আমার স্বামী জীবিত, কিন্তু ভারতের কারাগারে বন্দি। পুলিশ আমাদের নাম-ঠিকানা নিয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে দ্রুত তারা দেশে ফিরতে পারবেন এই আশায় প্রতিদিন পথ চেয়ে থাকি।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে নিখোঁজ ওই ট্রলারের সব জেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা গুজরাট কারাগারে আছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে।
নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুজ্জামান মাহফুজ জানান, তার ইউনিয়নের সাতজন জেলে ওই ঘটনায় নিখোঁজ হন। সম্প্রতি তাদের খোঁজ পাওয়ায় পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
দীর্ঘ দুই বছর পর প্রিয়জনদের জীবিত থাকার খবরে নিখোঁজ পরিবারগুলোর চোখে-মুখে এখন একটাই প্রত্যাশা দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে দ্রুত যেন তাদের স্বজনরা দেশে ফিরতে পারেন।’


