তজুমদ্দিন
তজুমদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ আহত ১৫
ভোলার তজুমদ্দিনে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের ৪ জনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে উভয়গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনেন।
আহত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১টার দিকে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন এবং যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার, মিজান গ্রুপের মধ্যে শশীগঞ্জ দক্ষিণ বাজার হাসপাতালের সামনে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের ৪ জনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, মো. নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), আল-আমিন (২৫) এবং রুবেল (৩৫)। আহদের মধ্যে আল-আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন বলেন, ২০১৭ সালে আ’লীগ ক্যাডাররা আমার বাজার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমাকে মারপিট করে উলঙ্গ করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। পরে ২০১৮ সালে সুইচঘাটে সাবেক শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারে তালুকদার মার্কেটে একটি দোকান দেই। ২০১৯ সালে বিস্ফোরক আইনে মামলার হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় দোকনের চাবি সবুজ তালুকদারের নিকটে গচ্ছিত রেখে যাই। আদালত আমাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করলে, আমি ১ মাসেরও বেশি সময় জেল খেটে এসে দেখি আমার দোকানের সকল মালামাল সবুজ এবং তার ভাই রিয়াজ মিলে লুট করে গেছে। ৫ আগস্টের পরে আমি আমার পাওনা বুঝে নিতে তা পাইনি। আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সবুজ তালুদারকে ধরতে শশীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ মাথায় গেলে গিয়াস এবং মিজানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করে।
যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার জানান, ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে ইকবাল হোসেন লিটন দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে গালিগালাজ, মারপিট করে। এ সময় রুবেল বাধা দিলে তাকে মারপিট করা হয়। এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে দক্ষিণ বাজারের লোকজন তাদেরকে প্রতিহত করতে গেলে সেখানে উভয়গ্রুপের মধ্যে সংঘাতে রূপ নেয়। এতে আমাদের রুবেল, ইলিয়াছ এবং আবু সাইদসহ কয়েকজন আহত হয়।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, মারামারির ঘটনায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


