গৌরনদী
গৌরনদীতে দেড়শ’ বছরের দুর্গা মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি অনুদাননির্ভর প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি দুর্গা মন্দির ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখলসহ ভোরে মন্দিরের প্রতিমাগুলো পার্শ্ববর্তী পালরদী নদীতে নিয়ে ফেলে দেয়ার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরী মহল্লার।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ওই মহল্লার বাসিন্দা মৃত মনোরঞ্জন মিত্রের ছেলে নারায়ন মিত্র অভিযোগ করেন-সুন্দরদী মৌজায় এসএ রের্কডীয় মালিক ব্রজবিলাশ মিত্রের কাছ থেকে ১৯৮৬ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি তিনি ৫৯৬ নম্বর দলিলে ১০৪৫/২ নম্বর খতিয়ানের ১৯৩৪ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত ওই জমির ওপর প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরানো সুন্দরী মিত্রবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির রয়েছে।
নারায়ন মিত্র বলেন, প্রতিবছর সার্বজনীন দুর্গোৎসবসহ ওই মন্দিরে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন হয়ে আসছে। গত ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাতে স্থানীয় মৃত ব্রজবিলাশ মিত্রের ছেলে রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র ওয়ারিশসূত্রে মন্দিরের ওই জমি নিজেদের দাবি করে তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দুর্গা মন্দিরটি ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখল করে নেয়। এমনকি ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে তারা আমাকে (নারায়ন) প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শণ করে। এ ঘটনায় তিনি (নারায়ন মিত্র) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এমনকি ওই সম্পত্তির ওপর তিনি আদালত থেকে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করিয়েছেন।
নারায়ন মিত্র অভিযোগ করে বলেন, মন্দিরের সম্পত্তি দখল ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য রিপন ও তার ভাড়াটিয়া লোকজনে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তারা দুর্গা মন্দির ভাঙচুর করে জমি দখলের বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি (নারায়ন) আরও বলেন- রিপন ও তার ভাই সুমন মিত্র স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় পুরো মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য তারা গুটিকয়েক সংবাদ মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যে কল্পকাহিনী সাজিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ক্রয়কৃত ও মন্দিরের সম্পত্তি রক্ষার জন্য তিনি (নারায়ন মিত্র) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে রিপন ও সুমন মিত্র বলেন, ২০১০ সালে ব্যবসার প্রয়োজনে আমরা ইসলামী ব্যাংক টরকী বন্দর শাখায় ওই জমির কাগজপত্র জমা দিয়ে ঋণ উত্তোলন করেছি। পরবর্তীতে আমাদের বসতঘরসহ ১৪ শতক জমি বিক্রি করি। এ খবর পেয়ে আমাদের চাচা নারায়ন মিত্র একটি ভুয়া দলিল বের করে আমাদের সম্পত্তি তার ক্রয়করা বলে দাবি করেন।
ভুয়া দলিলের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে নারায়ন মিত্র বলেন-আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তির দলিল যদি ভুয়া কিংবা জাল হয়ে থাকে, তা আদালতে প্রমান হবে। আমি অর্থের বিনিময়ে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে দলিল করেছি। সেখানে ভুয়া কিংবা জাল দলিলের কোন প্রশ্নই আসেনা।



