চরফ্যাশন
ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আহত ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার চরফ্যাশনে পূর্ব বিরোধের জেরে মো. মাসুদ (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আলামিনসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এছাড়া তাদের হামলায় নিহতের পরিবারের আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন আবু বকরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাতাব্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ ওই বাড়ির আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি ঢাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। প্রধান অভিযুক্ত মো. আলামিন আবু বকরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। নিহতের ভাই রাইহান ও চাচা সালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, মাসুদ ও তার অন্যান্য ভাইয়েরা মিলে ঢাকার সাভারে ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তারা সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা ও বোন সিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে প্রতিবেশী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলামিন কয়েকজনকে নিয়ে নিয়ে তাদের ঘরে ঢুকে ঝগড়ার কারণ জানার চেষ্টা করলে মাসুদের অন্যান্য ভাইয়েরা তাদের ঘরে ঢুকতে দেননি।
ফলে তাদের সাথে প্রথমে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার জেরে রাতেই ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তার লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয়রা রাতে ঘটনাটির মীমাংসা করলেও মীমাংসায় সন্তুষ্ট হননি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলামিন। এতে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হন ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
তারা আরও জানান, গতকাল রাতের ওই ঘটনার পর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাসুদের ভাই রাইহান ও মহসিন দুলারহাট বাজারের দিকে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলামিন লোকজন নিয়ে তাদের পথরোধ করে বেধড়ক পিটিয়ে ফের তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান।
বসতঘরে তাদের হামলায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মাসুদসহ ওই পরিবারের পাঁচজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিও জানিয়েছেন নিহত মাসুদের পরিবারের সদস্যরা। তবে এ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন অভিযুক্তরা। দুলারহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ইফতেখার জানান, নিহত মাসুদের মরদেহ চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো মামলা করেনি।