খেলাধুলা
হামজাকে ১০ এ ১০ দিলেন এমিলি-কৃষ্ণা
এএফসি এশিয়ান কাপর বাছাইাপর্বে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে অল্পের জন্য জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এই ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হয়েছে হামজা চৌধুরীর। তিনিই ছিলেন ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ। তার খেলা নিয়ে জনকণ্ঠের কাছে বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয় যুব ফুটবল দলের ম্যানেজার ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি।
কৃষ্ণা রানী সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে হামজার খেলা দেখলাম। তার খেলা দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি মুগ্ধ। তাকে আমি রেট করবো টেন অব টেন।’
জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘যদি ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচটা ওভারঅল দেখে থাকেন, তাহলে বলবো ম্যাচে যে ২২ জন প্লেয়ার খেলেছেন, তাদের মধ্যে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হচ্ছেন হামজা। যদি হামজার খেলা নিয়ে আমাকে রেটিং করতে বলা হয়, তাহলে আমি তাকে দশের মধ্যে দশ-ই দেব। এবার কারণ তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি মাঠের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে একেবারে ভিন্ন ধাঁচের খেলা খেলেছেন। তার খেলাটা একেবারেই আলাদা মনে হয়েছে। তিনি যে পজিশনে খেলেছেন, সেই প্রত্যেকটা জোনে গিয়ে তার দায়িত্বটা সুচারুভাবে পালন করেছেন। এবং কিছু অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।’
ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে এবং দলের সঙ্গে শিলং গিয়ে হামজা কিন্তু সতীর্থদের সঙ্গে খুব বেশি বেশি অনুশীলন করার সময় পাননি। সেক্ষেত্রে একটা শঙ্কা ছিল যে হয়তো দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে হামজার এবং তার প্রভাব পড়বে তার মাঠের খেলায়। কিন্তু হয়েছে ঠিক ঠিক তার উল্টো। বরং ভারতের বিপক্ষে মাঠে তিনি সতীর্থদের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন। অথচ বেশিরভাগ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা মানিয়ে নিতে পারেন না। এ ব্যাপারে কৃষ্ণা বলেন, ‘ফুটবল তো আসলে দলগত খেলায়। ভালো করতে গেলে এক্সপিরিয়েন্স, বন্ডিং লাগে। জাতীয় দলের হয়ে এই প্রথম খেললেত হামজা। সময় স্বল্পতার কারণে দলের সঙ্গে খুব বেশি অনুশীলন করার সময় পাননি তিনি। তারপরও নিজের এক্সপিরিয়েন্স দিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে ঠিকই চমৎকারভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছেন। তাদের সঙ্গে ভালো বন্ডিং হয়েছে, বোঝাপড়াও মন্দ ছিল না। এটা আমাদের প্লেয়ারদের জন্য যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি ওনার জন্যও ভালো হয়েছে।’
এমিলিও এই বষিয়ে একইসুরে কথা বলেন, ‘হঠাৎ করে এসে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা খুবই কষ্টকর, অনেক সময় অসম্ভবও বটে। তবে হামজার বেলায় তা হয়নি। আমার মনে হয় এমনটা হয়েছে হামজা ইজ এ ভেরি হাম্বল পার্সন। ভদ্র ও নমনীয় একটা ছেলে। হাসিমুখ ছাড়া কথা বলে না। অফ দ্য ফিল্ডে যখন আপনার একটা অন্যরকম চরিত্র ফুটে উঠবে, তখন মাঠের ফুটবলে কিন্তু সেই চরিত্রটা প্রতিফলিত হবেই। আপনি যখন ভাল ব্যবহারের মানুষ হবেন, তখন অন্যদের সঙ্গে একটা গুড রিলেশন তৈরি হবে। এতে মাঠে অন্য প্লেয়ারদের সঙ্গে তার একটা অন্যরকম রিলেশন তৈরি হবে। যার কারণে হামজারও মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি। আর আপনি যদি মুডি হতেন, বেশি ভাব নিতেন, নিজের ইগো বেশি প্রাধান্য দেবেন, তখন কিন্তু আপনার এডজাস্ট করতে বেশি সময় লাগবে। হামজার মতো এত উঁচুমানের প্লেয়ার যে এত কম প্র্যাকটিস করে এত তাড়াতাড়ি জাতীয় দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, এটা ভাবতেই পারিনি। এর প্রধান কারণ তিনি একজন বিনয়ী মানুষ।’